আক্কেল দাঁত—নামের মধ্যেই যেন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। বলা হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে “বুদ্ধি” বা “আক্কেল” আসার সময়েই এই দাঁত ওঠে বলে এমন নামকরণ। কিন্তু বাস্তবে এই দাঁত ওঠার সময় অনেকের জীবনেই নেমে আসে তীব্র যন্ত্রণা, অস্বস্তি ও উদ্বেগ। আক্কেল দাঁতের ব্যথা কেন হয়, কখন এটি স্বাভাবিক আর কখন এটি অপারেশনের প্রয়োজন তৈরি করে—এই সম্পূর্ণ গাইডে আমরা সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানব।
আক্কেল দাঁত কী?
আক্কেল দাঁত বা উইজডম টুথ হলো মুখের সবচেয়ে শেষে ওঠা দাঁত, যা সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে বের হয়। প্রতিটি মানুষের মুখে সাধারণত চারটি আক্কেল দাঁত থাকে—উপরের ও নিচের চোয়ালের দুই পাশে একটি করে। এগুলো মোলার বা দাঁড় দাঁতের তৃতীয় সেট হিসেবে পরিচিত।
আক্কেল দাঁতে কেন এত বেশি সমস্যা হয়?
আধুনিক মানুষের চোয়াল প্রাচীন পূর্বপুরুষদের তুলনায় ছোট হয়ে গেছে, কারণ আমাদের খাদ্যাভ্যাস বদলেছে এবং খাবার প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া উন্নত হয়েছে। ফলে চোয়ালে সব দাঁতের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আক্কেল দাঁত অনেক সময় সঠিকভাবে উঠতে পারে না। এই কারণেই আক্কেল দাঁত নিয়ে এত সমস্যা দেখা দেয়।
আক্কেল দাঁতের ব্যথার প্রধান কারণসমূহ
১. ইমপ্যাকশন (Impaction)
চোয়ালে জায়গা না থাকলে আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণভাবে বের হতে পারে না। এটি মাড়ির নিচে আটকে থাকতে পারে বা বাঁকাভাবে অন্য দাঁতের দিকে চাপ দিয়ে উঠতে চেষ্টা করতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় ইমপ্যাকটেড উইজডম টুথ, যা তীব্র ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ।
২. পেরিকোরোনাইটিস
দাঁত আংশিকভাবে বের হলে তার উপরে মাড়ির একটি অংশ ঢাকা থেকে যায়। এই ঢাকা অংশের নিচে খাদ্যকণা ও ব্যাকটেরিয়া জমে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যাকে বলে পেরিকোরোনাইটিস। এটি প্রচণ্ড ব্যথা, মাড়ি ফোলা ও মুখ খুলতে কষ্টের কারণ হয়।
৩. পাশের দাঁতে চাপ ও ক্ষতি
বাঁকাভাবে ওঠা আক্কেল দাঁত পাশের দাঁতের গোড়ায় চাপ দিতে পারে, যা শুধু ব্যথাই সৃষ্টি করে না, বরং পাশের দাঁতের ক্ষয় বা ক্ষতিও ঘটাতে পারে।
৪. সিস্ট বা টিউমার গঠন
বিরল ক্ষেত্রে, দীর্ঘদিন আটকে থাকা আক্কেল দাঁতের চারপাশে সিস্ট তৈরি হতে পারে, যা চোয়ালের হাড়ের ক্ষতি করতে পারে যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়।
৫. দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমা
আক্কেল দাঁত মুখের একেবারে পেছনে অবস্থিত হওয়ায় ব্রাশ করে পরিষ্কার করা কঠিন। ফলে সেখানে সহজেই খাদ্যকণা জমে ক্ষয় ও প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
আক্কেল দাঁতের ব্যথার লক্ষণসমূহ
- মুখের একেবারে পেছনে ব্যথা বা চাপ অনুভূতি
- মাড়ি ফুলে যাওয়া ও লালচে হয়ে যাওয়া
- মুখ পুরোপুরি খুলতে কষ্ট হওয়া
- চোয়াল বা কানের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
- মুখে দুর্গন্ধ বা তেতো স্বাদ
- খাবার গিলতে অসুবিধা
- জ্বর, বিশেষ করে সংক্রমণ থাকলে
- মাড়ি থেকে পুঁজ বা তরল নিঃসরণ
আক্কেল দাঁতের ব্যথায় ঘরোয়া প্রাথমিক সমাধান
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে সাময়িক আরামের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
- কুসুম গরম লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করুন, এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
- আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা সেঁক দিন
- নরম খাবার খান যাতে চোয়ালে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ ব্যথানাশক গ্রহণ করুন
- ওই স্থানে অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করা এড়িয়ে চলুন, তবে যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন
এই পদক্ষেপগুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও, মূল সমস্যার সমাধান নয়। তাই ব্যথা কমে গেলেও ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কখন আক্কেল দাঁত অপারেশনের প্রয়োজন হয়?
সব আক্কেল দাঁতের অপারেশন প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দাঁত সঠিকভাবে উঠলে ও কোনো সমস্যা তৈরি না করলে সেটি রেখে দেওয়া যায়। তবে নিচের পরিস্থিতিতে সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁত তুলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়:
১. সম্পূর্ণ বা আংশিক ইমপ্যাকশন
দাঁত মাড়ির নিচে আটকে আছে বা বাঁকাভাবে উঠছে এবং ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করার সম্ভাবনা আছে।
২. বারবার সংক্রমণ
পেরিকোরোনাইটিস বারবার ফিরে এলে দাঁত রেখে দেওয়ার চেয়ে তুলে ফেলাই নিরাপদ সমাধান।
৩. পাশের দাঁতের ক্ষতি
আক্কেল দাঁত পাশের দাঁতের গোড়ায় চাপ দিয়ে ক্ষয় বা ক্ষতি করলে দ্রুত অপসারণ প্রয়োজন।
৪. সিস্ট বা টিউমারের উপস্থিতি
এক্স-রেতে সিস্ট বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ধরা পড়লে অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন।
৫. অর্থোডন্টিক চিকিৎসার প্রয়োজনে
ব্রেসেস বা অন্য কোনো দাঁত সোজা করার চিকিৎসার জন্য জায়গা তৈরি করতে কখনো কখনো আক্কেল দাঁত অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
৬. তীব্র ও ক্রমাগত ব্যথা
ওষুধ বা ঘরোয়া পদ্ধতিতেও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না এলে অস্ত্রোপচারই একমাত্র স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
আক্কেল দাঁত অপারেশন প্রক্রিয়া কেমন হয়?
আধুনিক ডেন্টাল প্রযুক্তির কারণে আক্কেল দাঁত অপসারণ এখন একটি নিরাপদ ও তুলনামূলক দ্রুত প্রক্রিয়া। সাধারণ ধাপগুলো নিম্নরূপ:
- এক্স-রে পরীক্ষা: দাঁতের অবস্থান, নার্ভের সঙ্গে দূরত্ব ও হাড়ের গঠন যাচাই করা হয়
- লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া: আক্রান্ত স্থান সম্পূর্ণ অবশ করে দেওয়া হয়, ফলে অপারেশনের সময় ব্যথা অনুভূত হয় না
- দাঁত অপসারণ: সাধারণ এক্সট্রাকশন বা প্রয়োজনে সার্জিক্যাল পদ্ধতিতে দাঁত বের করা হয়
- সেলাই (প্রয়োজনে): গভীর কাটা জায়গায় সেলাই দেওয়া হতে পারে, যা কিছুদিন পর নিজে থেকেই মিশে যায় বা তুলে ফেলা হয়
- পরবর্তী পরিচর্যার নির্দেশনা: ডেন্টিস্ট রিকভারির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন
অপারেশনের পর রিকভারি সময়
অপারেশনের পর সাধারণত ৩-৫ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়, তবে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে ১-২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই সময়ে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
- অস্ত্রোপচারের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা গরম কিছু খাওয়া বা কুলকুচি করা এড়িয়ে চলুন
- ঠান্ডা সেঁক দিয়ে ফোলাভাব কমান
- নরম ও তরল খাবার খান (স্যুপ, দই, স্মুদি)
- স্ট্র দিয়ে পানীয় পান করা এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়ে “ড্রাই সকেট” হতে পারে
- ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন
- চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ নিয়মমাফিক গ্রহণ করুন
- অতিরিক্ত ব্যায়াম বা পরিশ্রম কয়েকদিন এড়িয়ে চলুন
অপারেশনের পর সম্ভাব্য জটিলতা
যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রিকভারি স্বাভাবিকভাবে হয়, কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে যেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত ডেন্টিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত:
- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ যা বন্ধ হচ্ছে না
- তীব্র ব্যথা যা ওষুধেও কমছে না (ড্রাই সকেটের লক্ষণ হতে পারে)
- জ্বর
- মুখ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত তরল নিঃসরণ
- ঠোঁট বা চিবুকে অস্বাভাবিক অসাড়তা যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে
আক্কেল দাঁত রেখে দেওয়া কি নিরাপদ?
যদি আক্কেল দাঁত সঠিক অবস্থানে থাকে, বিপরীত দাঁতের সঙ্গে সঠিকভাবে মিলিত হয়, ব্রাশ করে সহজে পরিষ্কার রাখা যায় এবং কোনো ব্যথা বা সমস্যা তৈরি না করে, তাহলে সেটি অপারেশন ছাড়াই রেখে দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত এক্স-রে ও চেকআপের মাধ্যমে দাঁতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
আক্কেল দাঁত সংক্রান্ত সাধারণ ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১: আক্কেল দাঁত উঠলেই বুদ্ধি বাড়ে এটি নিছকই একটি লোকজ বিশ্বাস। আক্কেল দাঁত মূলত একটি সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট বয়সে ঘটে এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এর কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই।
ভুল ধারণা ২: ব্যথা না থাকলে আক্কেল দাঁতে কোনো সমস্যা নেই অনেক ক্ষেত্রে ইমপ্যাকশন বা সিস্ট তৈরি হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ব্যথা অনুভূত নাও হতে পারে। তাই নিয়মিত এক্স-রে করিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, শুধু ব্যথার উপর নির্ভর করা উচিত নয়।
ভুল ধারণা ৩: আক্কেল দাঁত তোলার পর মুখের গঠন পরিবর্তন হয় এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আক্কেল দাঁত অপসারণের ফলে মুখের গঠন বা চোয়ালের আকারে কোনো পরিবর্তন আসে না, বরং এটি অন্যান্য দাঁতকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে।
আক্কেল দাঁত ওঠার সময় কীভাবে বুঝবেন এটি স্বাভাবিক নাকি সমস্যাযুক্ত
আক্কেল দাঁত ওঠার সময় হালকা অস্বস্তি বা সামান্য চাপ অনুভব করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং এর জন্য সবসময় চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যদি অস্বস্তি ধীরে ধীরে তীব্র ব্যথায় রূপান্তরিত হয়, মাড়ি ফুলে ওঠে, মুখ খুলতে কষ্ট হয় বা জ্বর দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে এবং দ্রুত পেশাদার পরামর্শ প্রয়োজন। নিয়মিত ৬ মাস অন্তর ডেন্টাল চেকআপের মাধ্যমে আক্কেল দাঁতের অবস্থান ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা, যাতে সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আক্কেল দাঁত অপসারণের খরচ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা
আক্কেল দাঁত অপসারণের খরচ দাঁতের অবস্থান, ইমপ্যাকশনের মাত্রা এবং সার্জারির জটিলতার উপর নির্ভর করে ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ এক্সট্রাকশনের তুলনায় সার্জিক্যাল এক্সট্রাকশনে বেশি সময়, দক্ষতা ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, তাই এর খরচও তুলনামূলক বেশি হয়। এক্স-রে, অ্যানেস্থেশিয়া ও পরবর্তী ফলো-আপ ভিজিটও সামগ্রিক খরচের অংশ হতে পারে। সঠিক ও নির্দিষ্ট খরচ জানতে সরাসরি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়, কারণ প্রতিটি রোগীর দাঁতের অবস্থা আলাদা।
আক্কেল দাঁত অপারেশনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি
অনেকেই আক্কেল দাঁত অপসারণের কথা শুনে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, যদিও আধুনিক চিকিৎসায় এটি একটি নিয়মিত ও নিরাপদ প্রক্রিয়া। অপারেশনের আগে ডেন্টিস্টের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করে সমস্ত প্রশ্ন ও উদ্বেগ জেনে নেওয়া উচিত। অপারেশনের দিন হালকা খাবার খেয়ে যাওয়া, আরামদায়ক পোশাক পরা এবং সঙ্গে কাউকে নিয়ে যাওয়া ভালো, বিশেষত যদি সেডেশন ব্যবহার করা হয়। মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও কম চাপযুক্ত মনে হয়।
আক্কেল দাঁত অপসারণের পর খাদ্যতালিকা পরিকল্পনা
অস্ত্রোপচারের পর প্রথম কয়েকদিন সঠিক খাদ্য নির্বাচন রিকভারিকে দ্রুততর করতে সাহায্য করে। প্রথম দিন সম্পূর্ণ তরল খাবার যেমন স্যুপ, জুস (স্ট্র ছাড়া) ও দুধ খাওয়া ভালো। দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় দিনে নরম খাবার যেমন ম্যাশড আলু, দই, খিচুড়ি বা সেদ্ধ সবজি যোগ করা যেতে পারে। এক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাওয়া যায়, তবে অস্ত্রোপচারের স্থানে সরাসরি শক্ত বা মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত যতক্ষণ না সম্পূর্ণ সেরে ওঠে।
আক্কেল দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং-এর গুরুত্ব
আক্কেল দাঁত সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ। ১৬-১৭ বছর বয়স থেকেই এক্স-রে করিয়ে আক্কেল দাঁতের অবস্থান পর্যবেক্ষণ শুরু করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা তৈরি হতে পারে কি না তা আগেভাগেই বোঝা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা চিহ্নিত করা গেলে পরিকল্পিতভাবে, কম জটিলতায় ও কম খরচে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তুলনায় জরুরি অবস্থায় হুট করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে জটিলতা ও খরচ উভয়ই বেড়ে যেতে পারে।
আক্কেল দাঁত ও অন্যান্য দাঁতের সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক
আক্কেল দাঁতের সমস্যা অনেক সময় একাকী আসে না, বরং এটি মুখের অন্যান্য সমস্যার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। ইমপ্যাকটেড আক্কেল দাঁত পাশের মোলারে চাপ দিয়ে সেই দাঁতের ক্ষয় বা মূলের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া আক্কেল দাঁতের সংক্রমণ কখনো কখনো পুরো চোয়াল বা এমনকি ঘাড়ের লিম্ফ নোড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যদি সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া হয়। যাদের ইতিমধ্যে ব্রেসেস চলছে বা অর্থোডন্টিক চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আক্কেল দাঁত ওঠার সময় পূর্বের সাজানো দাঁতের সারিতেও চাপ পড়তে পারে, যা চিকিৎসার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণেই আক্কেল দাঁতের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সামগ্রিক মৌখিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আক্কেল দাঁত অপসারণের পর দীর্ঘমেয়াদী মৌখিক স্বাস্থ্য পরিকল্পনা
অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাৎক্ষণিক রিকভারির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। অপসারণের স্থান সম্পূর্ণভাবে সেরে যাওয়ার পর সেই এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি ৬ মাসে নিয়মিত চেকআপ চালিয়ে যাওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে আক্কেল দাঁত অপসারণের পর পাশের দাঁতগুলো ধীরে ধীরে নতুন জায়গায় সামান্য স্থানান্তরিত হতে পারে, যা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে রাখা এবং প্রয়োজনে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সুসংগঠিত দাঁতের সারি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Novodent Dental Clinic-এ আক্কেল দাঁতের চিকিৎসা
Novodent Dental Clinic অভিজ্ঞ ওরাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন নিয়ে আক্কেল দাঁতের নিরাপদ ও প্রায় ব্যথাহীন চিকিৎসা প্রদান করে। ডিজিটাল এক্স-রের মাধ্যমে সঠিক নির্ণয়ের পর আমরা প্রতিটি রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রস্তুত করি, যাতে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো যায় এবং প্রয়োজনে নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে দাঁত অপসারণ করা যায়। মোহাম্মদপুর ও বনানী শাখায় আমাদের সেবার তালিকা দেখুন অথবা আক্কেল দাঁতের ব্যথা অনুভব করলে দেরি না করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন।
পরিশেষে
আক্কেল দাঁতের ব্যথা অনেকের কাছেই একটি দুশ্চিন্তার বিষয়, তবে সঠিক নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। প্রতিটি আক্কেল দাঁতের অপারেশনের প্রয়োজন হয় না, তবে ব্যথা, সংক্রমণ বা পাশের দাঁতের ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসকের হাতে এই চিকিৎসা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আরামদায়ক।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: আক্কেল দাঁত তোলা কি খুব ব্যথাদায়ক? উত্তর: অপারেশনের সময় লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে ব্যথা অনুভূত হয় না। অপারেশনের পর কয়েকদিন হালকা থেকে মাঝারি অস্বস্তি থাকতে পারে, যা ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
প্রশ্ন: সব আক্কেল দাঁতই কি তুলে ফেলতে হয়? উত্তর: না। যদি দাঁত সঠিক অবস্থানে থাকে এবং কোনো সমস্যা না করে, তাহলে সেটি রেখে দেওয়া যায়, তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
প্রশ্ন: আক্কেল দাঁত তোলার পর কতদিন বিশ্রাম নিতে হয়? উত্তর: সাধারণত ২-৩ দিন হালকা কাজের জন্য বিশ্রাম নেওয়া উচিত, তবে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে ১-২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
প্রশ্ন: আক্কেল দাঁতের ব্যথা কি নিজে থেকে সেরে যেতে পারে? উত্তর: সাময়িকভাবে কমতে পারে, তবে ইমপ্যাকশন বা সংক্রমণের কারণে হলে এটি বারবার ফিরে আসে এবং পেশাদার চিকিৎসা ছাড়া স্থায়ীভাবে সারে না।